২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া, সময়সীমা ও করণীয়

বাংলাদেশে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নতুন শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তি হওয়ার এই সময়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মনে বিভিন্ন  প্রশ্ন ঘুরপাক খায় – ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া কেমন হবে, সময়সীমা কী, আর বিশেষ কোটার (Special Quota/SQ) শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা করে কী কী নিয়ম মানতে হবে। এই রকম বিভিন্ন প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক কখায়।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমে এবারও আমরা  অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম পর্যায়ের আবেদনের সময়সীমা ইতোমধ্যেই শেষ হলেও বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এইটা মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বিকেল ৫টার মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে

এই  পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব—
  • বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন কী?
  • কারা বিশেষ কোটায় আবেদন করতে পারে?
  • কলেজ কর্তৃপক্ষের করণীয় কী এবং কোন কোন বিষয়।
  • শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা কেন জরুরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • ভর্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ কীভাবে চলবে?

 

বিশেষ কোটার (Special Quota) নিশ্চায়ন কী?

ভর্তি প্রক্রিয়ায় বিশেষ কোটার শিক্ষার্থীরা কিছু বাড়তি সুবিধা পান। যেমন—শহীদ সন্তান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ইত্যাদি। কিন্তু তারা আবেদন করার পর চূড়ান্তভাবে ভর্তির সুযোগ পাবে কি না, তা নির্ভর করে কলেজ কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের উপর।

নিশ্চায়ন মানে হলো, শিক্ষার্থী যে কোটায় আবেদন করেছে, সেটি বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য কিনা কলেজ কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করে অনুমোদন করবেন।

এই প্রক্রিয়াটি অনলাইনে xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

 

কারা বিশেষ কোটায় আবেদন করতে পারে?

বিশেষ কোটার সুযোগ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ। যেমন:

কোটার নামযোগ্য শিক্ষার্থী
শহীদ সন্তান কোটামুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া ব্যক্তির সন্তান/সন্তানদের
প্রতিবন্ধী কোটাশারীরিক/মানসিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটাপার্বত্য বা অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী
প্রবাসী সন্তান কোটাপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তান
খেলোয়াড় কোটাজাতীয়/আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ শিক্ষার্থী

শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া

কলেজ কর্তৃপক্ষের করণীয়

কলেজ কর্তৃপক্ষের ওপর বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। তাদের করতে হবে—

১।  অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লগইন করা (https://xiclassadmission.gov.bd)।

২।  কলেজের EIIN নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করা।

৩। বিশেষ কোটার আওতায় আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা যাচাই করা।

৪।  প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে অনুমোদন (Approval) প্রদান করা।

৫। নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ১৬ আগস্ট বিকেল ৫টার আগে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা।

আবেদন করতে ক্লিক করুন

সময়সীমা মেনে চলা কেন জরুরি?
  • সময় শেষ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীর আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
  • পরবর্তীতে ভর্তির সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
  • শিক্ষা বোর্ড দায়িত্ব নেবে না, কলেজ কর্তৃপক্ষকেই দায় নিতে হবে।
  • শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তাই কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবক উভয়েরই সতর্ক থাকতে হবে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া, সময়সীমা ও করণীয়

শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জানা প্রয়োজন

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচিত—

  • আবেদন করার পর কলেজে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া যে তাদের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে কি না।
  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (xiclassadmission.gov.bd) নিয়মিত ভিজিট করা।
  • প্রয়োজনে কলেজে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করা।

আরো পড়ুন:-

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে।

ধাপকাজসময়সীমা
প্রথম ধাপআবেদন গ্রহণ৩০ জুলাই – ১৫ আগস্ট
বিশেষ কোটানিশ্চায়ন১৬ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত
মেধা তালিকাপ্রকাশপরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী
ভর্তির নিশ্চায়নঅনলাইনেনির্ধারিত সময় অনুযায়ী
ক্লাস শুরু২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেশিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত সময় অনুযায়ী

 

বিশেষ কোটার গুরুত্ব

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ কোটার মাধ্যমে সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও শহীদ পরিবারের সন্তানরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য এই কোটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ

বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর ভর্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো হলো:

১।  মেধা তালিকা প্রকাশ

২। ভর্তি নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া

৩। চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম

৪।  ক্লাস শুরু

 

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়া একটি আধুনিক ও ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সহজে আবেদন ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন। তবে বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা অবহেলা করলে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

 

 (FAQ)

 ১: বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন  বলতে আমরা কী বুঝি ?
বিশেষ কোটার নিশ্চায়ন বলতে আমরা বুঝি।  শিক্ষার্থীর আবেদন করার পর  যাচাই করে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনলাইনে অনুমোদন প্রক্রিয়া  দেওয়া।

২: কখন কোটার ব্যবহার  নিশ্চায়ন করা ?
আগামী ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বিকেল ৫টার মধ্যে।

 ৩: কলেজ নিশ্চায়ন না করে তাহলে আমাদের  কী করা উচিত ,
আবেদন বাতিল হয়ে যাবে এবং শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ হারাবে। তাই এই বিষয় টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ,

 ৪: নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া কোথায় সম্পন্ন করতে হবে ,
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://xiclassadmission.gov.bd-এ। মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কতে হবে।

 ৫: কারা বিশেষ কোটার আওতায় পড়ে?
শহীদ সন্তান, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রবাসী সন্তান ও খেলোয়াড় শিক্ষার্থীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top